Universal pension scheme-সর্বজনীন পেনশন স্কিম

             


  

প্রাক কথন:

দেশের জনগণের গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই ও সুসংগঠিত সমাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যে এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে নির্ভশীলতার হার বৃদ্ধি পাবে বিবেচনায় নিয়ে মহান জাতীয় সংসদ কর্তৃক “সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩” পাশ করা হয় এবং গত ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। উক্ত আইনের আলোকে গঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

 

সর্বজনীন পেনশন স্কীম কি?

সর্বজনীন পেনশন স্কীম হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ প্রবর্তিত এক ধরনের পেনশন স্কীম যার মুল উদ্দেশ্য হলো দেশের সকল নাগরিকদের বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনশন সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা। সর্বজনীন পেনশন স্কীম পরিচালনা করার জন্য 2023 সালে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। দেশের সকল নাগরিকদের বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় এনে এ স্কীম প্রবর্তন করা হয়েছে। এটি দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা। হাসিনা সরকারের 2008 সালের নির্বাচনী ইশতিহারের ফসল এটি।

সংক্ষিপ্ত ধারণা

টেকসই উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হলো- উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সকল নাগরিককে সম্পৃক্ত করা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। বৈষম্যহীন সামাজিক কাঠামোয় সকল নাগরিকের বিশেষ করে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে একটি টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনয়নে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি ২০০৮ সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তন করার বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করাসহ ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনের ঘোষণা প্রদান করেন। এর ধারাবাহিকতায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ প্রণীত হয় যার অধীনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ১৭ আগস্ট ২০২৩ তারিখ সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী জনকল্যাণমূখী পদক্ষেপ, যা সকল নাগরিকের অবসরকালীন আর্থিক মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচিত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শনের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী ও সমৃদ্ধ উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো বিনির্মান করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বর্তমানে ৭২.৩ বছর হলেও ভবিষ্যতে গড় আয়ু আরও বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশ জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend) এর সুবিধা ভোগ করছে। বর্তমানে আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬২% কর্মক্ষম। ৬৫ বছর ঊর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭% যারা মূলতঃ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠির উপর নির্ভরশীল। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ২৫% এ উন্নীত হতে পারে। একই সাথে গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধিজনিত কারণে ভবিষ্যতে নির্ভরশীলতার হার বৃদ্ধি পাবে বিধায় একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। ১৮ বছরের অধিক বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনা সম্ভব হলে তারা একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতাভুক্ত হবেন। সেলক্ষ্যে দেশের ১০ কোটি নাগরিককে সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে আমাদের বয়স্ক জনসাধারণের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে।

সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে এর কার্যক্রম শুরু করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের সাথে সংগতি রেখে সম্পূর্ণ আইটি প্লাটফর্মে সর্বজনীন পেনশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটির উন্নয়ন করা হয়েছে। যে কোন ব্যক্তি www.upension.gov.bd ওয়েবসাইটে ভিজিট করে সহজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পাদন এবং অনলাইন ব্যাংকিং, ক্রেডিট কার্ড/ডেবিট কার্ড ও মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এর মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সাবস্ক্রাইবারকে upension সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ইউনিক পেনশন আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে লগইন করে একজন সাবস্ক্রাইবার তার পেনশন (কর্পাস) হিসাবে জমার পরিমাণ, প্রাপ্ত লভ্যাংশ ইত্যাদি সরাসরি দেখতে পারেন। আইটি জ্ঞান সীমিত বা আইটি এক্সেস নেই এমন কোন ব্যক্তিও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইন্টারনেট ক্যাফে কিংবা অন্য কারও সহায়তায় নিবন্ধন সম্পাদন করতে পারেন। যদি কারো অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা না থাকে তবে সে সোনালী বা অগ্রণী ব্যাংকের যে কোন ব্রাঞ্চের কাউন্টারে গিয়ে সহজেই টাকা জমা প্রদান করতে পারেন। ভবিষ্যতে ব্যাংকের আওতা বাড়িয়ে এ সেবা আরো সহজতর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখ পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ১৬,৬০০ জন নিবন্ধন করেছেন, যার বিপরীতে ১৯ কোটি টাকা জমা হয়েছে।

 

সর্বজনীন পেনশন স্কীমের বৈশিষ্ট:

1.  যেকোন সময় যেকোন স্থান থেকে পেনশন হিসাব খোলা যায়। হিসাব খোলার জন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

2.  সহজে ঘরে বসে পেনশনের চাঁদা জমা  দেওয়া যায় ।

3.  কাগজ পত্র, ছবি, ফরম পূরণ ইত্যাদির ঝামেলা নেই।

4.  ঘরে বসে নিজের হিসাবের সবকিছু দেখা যায় এমনকি তথ্য পরিবর্তন ও করা যায়।

5.  জাতীয় পরিচয়পত্রকে ভিত্তি ধরে ১৮ (আঠারো) বৎসর তদূর্ধ্ব বয়স হতে ৫০ (পঞ্চাশ) বৎসর বয়সি সকল বাংলাদেশি নাগরিক সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রণ করতে পারবেন।

6.  তবে শর্ত থাকে যে, বিশেষ বিবেচনায় ৫০ (পঞ্চাশ) বৎসর উর্ধ্ব বয়সের নাগরিকগণও সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে স্কিমে অংশগ্রহণের তারিখ হতে নিরবচ্ছিন্ন ১০ (দশ) বৎসর চাঁদা প্রদান শেষে তিনি যে বয়সে উপনীত হবেন সেই বয়স হতে আজীবন পেনশন প্রাপ্ত হবেন।

7.  বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীগণ এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত হতে পারবেন।

8.  প্রত্যেক চাঁদাদাতার জন্য একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র পেনশন হিসাব থাকবে। যেটিকে কর্পাস হিসাব বলা হয়।

9.  পেনশনে থাকাকালীন ৭৫ (পচাঁত্তর) বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে মৃত্যুবরণ করলে পেনশনারের নমিনি অবশিষ্ট সময়কালের (মূল পেনশনারের বয়স ৭৫ (পঁচাত্তর) বৎসর পর্যন্ত) জন্য মাসিক পেনশন প্রাপ্ত হবেন।

10.          চাঁদাদাতা কমপক্ষে ১০ (দশ) বৎসর চাঁদা প্রদান করার পূর্বে মৃত্যুবরণ করলে জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ তার নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।

11.          পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসাবে গণ্য করে কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হবে এবং মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ আয়কর মুক্ত থাকবে।

 

 

সর্বজনীন পেনশন স্কীমের সুবিধা:

 

1.  বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তা

2.  প্রয়োজনে ঋণ সুবিধা ( জমাকৃত অর্থের উপর 24 মাস মেয়াদী 50% ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে )

3.  সঞ্চয়ের অভ্যাস গঠন

4.  পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ।

5.  কমপক্ষে 15 বছরের গ্যারান্টি পেনশন

6.  জাতীয় অথনীতিতে অবদান রাখা

7.  সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল বাংলাদেশি নাগরিক অংশ নিতে পারবেন। তবে, বিশেষ বিবেচনায় পঞ্চাশোর্ধ নাগরিকগণও ১০ বছর নিরবচ্ছিন্ন চাঁদা প্রদান করলে আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন।

8.  প্রবাস থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় প্রেরিত চাঁদার ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যাবে। এ প্রণোদনার অর্থ তার চাঁদা হিসেবে জমা হবে ।

9.  ব্যাংকে সরাসরি গিয়ে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অনলাইন ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে চাঁদার টাকা জমা দেওয়া যাবে ।

10.          প্রবাসী স্কিমে অংশগ্রহণকারীগণ ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রায় মাসিক চাঁদার টাকা জমা দিবেন।

11.          চাঁদার টাকা ট্রেজারি বন্ডসহ নিরাপদ কার্যক্রমে বিনিয়োগ করা হবে। বিধায় কোন ঝুঁকি নেই।

12.          সর্বজনীন পেনশন স্কিমে প্রদত্ত চাঁদা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াত পাওয়া যাবে।

13.          আবেদনের সময় চাঁদাদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক।

14.          মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থও আয়কর মুক্ত থাকবে।

15.          নির্ধারিত ফরমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে, যার বিপরীতে আবেদনকারীর অনুকূলে একটি ইউনিক আইডি প্রদান করা হবে।

16.          মোবাইল নম্বর ও প্রবাসীদের ইমেইলের মাধ্যমে ইউনিক আইডি নম্বর, চাঁদার হার এবং মাসিক চাঁদা প্রদানের তারিখ অবহিত করা হবে।

17.          সোনালী ব্যাংকের প্রতিটি শাখা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সম্মুখ অফিস হিসেবে কাজ করবে।

18.          পেনশনের টাকা তোলার জন্য কোনো অফিসে যেতে হবে না। আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেনশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে।

19.          পেনশন স্কিম ও চাঁদার হার যেকোনো সময় পরিবর্তন করা যাবে। তবে, পেনশনার আইডি অপরিবর্তিত থাকবে।

 

 

সীমাবদ্ধতা:

দুই একটি বিষয় বাদে এটির তেমন কোন সীমাবদ্ধতা বা অসুবিধা আমার কাছে মনে হয়নি। সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিঃসন্দেহে দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য একটি বিশেষ উপহার । তবে আমার কাছে নিন্মোক্ত ৩টি  বিষয়ে এ স্কিমের সীমাবদ্ধতাবলে মনে হয়েছে।

1.  সর্বজনীন পেনশন স্কীম শুরু করলে আপনাকে শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। কয়েকটি কিস্তি প্রদানের পর তাৎক্ষণিক নগদায়ন করার সুবিধা নেই। আপনার অর্থনৈতিক বিপর্যয়/অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলে এটি বাতিল করে তাৎক্ষণিক নগদ টাকা পাওয়ার সুবিধা নেই। তবে জরুরি প্রয়োজনে আপনি জমাকৃত  অর্থের  50% ঋণ নিতে পারবেন। যার মেয়াদ হবে 24 মাস বা দুই বছর ।

 

2.  মেয়াদ শেষে এককালীন টাকা পাওয়ার সুযোগ না থাকা। মেয়াদ শেষে কমপক্ষে অর্ধেক টাকা নগদায়ন করার সুযোগ থাকা আবশ্যক ছিল। অর্থাৎ মেয়াদ শেষে 50% টাকা নগদায়ন করে পাওয়া এবং অবশিষ্ট 50% পেনশন আকারে পাওয়ার অপনশ রাখার দরকার ছিল ।

 

 

3.  পেনশনারের মৃত্যুর পর নমিনি হিসাবে স্ত্রী/স্বামী আজীবন পেনশন না পাওয়া । নমিনি কেবল স্বামী/স্ত্রী হলে পেনশনারের মৃত্যুর পর নমিনির আজীবন পেনশন পাওয়া আবশ্যক ছিল। যেমনটি সরকারি চাকুরিজীবিদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। সরকারি ক্ষেত্রে চাকুরিজীবি  স্বামী/স্ত্রী মারা গেলে নমিনি হিসাবে স্বামী/স্ত্রী আজীবন পেনশন প্রাপ্ত হন।

 

 

 

 

সর্বজনীন পেনশন স্কীম যে বা যারা খুলতে পারবেন?

জাতীয় পরিচয়পত্রধারী 18-50 বছর বয়সী যেকোন বাংলাদেশী নাগরিক এ স্কীম খুলতে পারবেন। বিশেষ বিবেচনায় 50 বছরের উদ্ধে থাকা ব্যক্তিরাও  এটি খুলতে পারবেন। তবে তাদের পেনশন পাওয়ার জন্য বিরতিহীন 10 বছর চাঁদা জমা দিতে হবে। উদাহরণস্বরুপ কোন ব্যক্তি যদি 56 বছর বয়সে পেনশন স্কীমে যুক্ত হন তবে তাকে 66 বছর পর্যন্ত চাঁদা দিতে হবে এবং 67 বছর বয়স থেকে তিনি পেনশন প্রাপ্ত হবেন।  

 

সর্বজনীন পেনশন স্কীম যে বা যারা খুলতে পারবেন না?

1.  সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা এটি করতে পারবেন না।

2.  সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সুবিধাভোগীরা (  বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা ) এটি করতে পারবেন না। তবে সুবিধা সমর্পণ করে এটি করা যাবে। কিন্তু যারা সাময়িক ক্যাশ ট্রান্সফার ( মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিএফ ) প্রোগ্রামের সুবিধাভোগী তারা পেনশন স্কিমে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন।

3.  সর্বজনীন পেনশন স্কিম বহির্ভুত কোন ধরনের সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হতে পেনশন গ্রহণকারী ব্যক্তিরা এটিতে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না।

সর্বজনীন পেনশনের সাথে জড়িত অফিস সমুহ:

প্রধান অফিস:

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ

43, কাকরাইল, 4 আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম রোড, ঢাকা-1000 ।

সম্মুখ অফিস:

1.  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়

2.  উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়

3.  সোনালী ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংকের সকল শাখা

4.  ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার

5.  অন্যান্য

 

 

 

 

 

 

সর্বজনীন পেনশন স্কীমের প্রকাভেদ:

বর্তমানে 5 ধরনের স্কীম রয়েছে। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা এবং প্রত্যয়।

 

 

প্রবাস:

 প্রবাসে কর্মরত শ্রমিক/কর্মচারী/কর্মকর্তা এ স্কিমে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন।

মাসিক জমার হার

2,000

5,000

7,500

10,000

জমা প্রদানের মোট সময়কাল (বছরে)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

42

68,931

1,72,327

2,58,491

3,44,655

40

58,400

1,46,001

2,19,001

2,92,002

35

38,374

95,935

1,43,902

1,91,870

30

24,932

62,330

93,495

1,24,660

25

15,910

39,774

59,661

79,548

20

9,854

24,634

36,951

49,268

15

5,789

14,472

21,708

28,944

10

3,060

7,651

11,477

15,302

 

 

প্রগতি:

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীদের জন্য এ সুবিধা। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অথবা নিজ উদ্যোগে এককভাবে এ স্কিমে যুক্ত হওয়া যাবে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্কিমে যোগ দিলে ক্ষিমের চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি অংশ প্রতিষ্ঠান দিবে। মাসিক চাঁদার হার ২০০০, ৩০০০ ও ৫০০০ টাকা।

মাসিক জমার হার

2,000

3,000

5,000

10,000

জমা প্রদানের মোট সময়কাল (বছরে)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

42

68,931

1,03,396

1,72,327

3,44,655

40

58,400

87,601

1,46,001

2,92,002

35

38,374

57,561

95,935

1,91,870

30

24,932

37,398

62,330

1,24,660

25

15,910

23,864

39,774

79,548

20

9,854

14,780

24,634

49,268

15

5,789

8,683

14,472

28,944

10

3,060

4,591

7,651

15,302

 

 

 

 

সুরক্ষা:

স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য এ স্কিম। কৃষক, রিকশাচালক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, গৃহিণী, তাঁতিসহ সব অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ নির্ধারিত হারে চাঁদা প্রদান করে এ স্কীমে যুক্ত হতে পারবেন। মাসিক চাঁদার হার 1000,2000,3000 ও 5,000 টাকা

মাসিক জমার হার

1,000

2,000

3,000

5,000

জমা প্রদানের মোট সময়কাল (বছরে)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

42

34,465

68,931

1,03,396

1,72,327

40

29,200

58,400

87,601

1,46,001

35

19,187

38,374

57,561

95,935

30

12,466

24,932

37,398

62,330

25

7,955

15,910

23,864

39,774

20

4,927

9,854

14,780

24,634

15

2,894

5,789

8,683

14,472

10

1,530

3,060

4,591

7,651

 

 

 

 

সমতা

দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী (যাদের আয়সীমা বাৎসরিক অনুর্ধ্ব ৬০ হাজার টাকা) স্বল্প আয়ের নাগরিক- গণের জন্য এ স্কিম। সমতা স্কিমে মাসিক চাঁদার হার ১০০০ টাকা। যার মধ্যে চাঁদাদাতা জমা দিবেন ৫০০ টাকা এবং বাকি ৫০০ টাকা দিবে সরকার।

মাসিক জমার হার

1,000 ( চাঁদাদাতা  500 + সরকার 500)

জমা প্রদানের মোট সময়কাল (বছরে)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

42

34,465

40

29,200

35

19,187

30

12,466

25

7,955

20

4,927

15

2,894

10

1,530

 

 

 

প্রত্যয় ( প্রস্তাবিত )

স্বশাসত , স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্টায়ত্ত  এবং সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীরা এ স্কিমে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন। অর্থাৎ ব্যাংক, বীমা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসবে। এক্ষেত্রে কর্মী ও নিয়োগকর্তা চাঁদা প্রদান করবেন। 1লা জুলাই 2024 থেকে যারা বর্ণিত প্রতিষ্ঠানে যোগদান করবেন তারা বাধ্যতামুলকভাবে এ স্কিমের আওতায় যুক্ত হবেন ।

মাসিক জমার হার

2,000

3,000

5000

10,000

জমা প্রদানের মোট সময়কাল (বছরে)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

সম্ভাব্য  মাসিক পেনশন (টাকা)

42

68,931

1,03,396

1,72,327

3,44,655

40

58,400

87,601

1,46,001

2,92,002

35

38,374

57,561

95,935

1,91,870

30

24,932

37,398

62,330

1,24,660

25

15,910

23,864

39,774

79,548

20

9,854

14,780

24,634

49,268

15

5,789

8,683

14,472

28,944

10

3,060

4,591

7,651

15,302

 

পেনশন হিসাব:

সর্বজনীন পেনশন হিসাব খোলার প্রয়োজনীয় তথ্য সমুহ:

1.  জাতীয় পরিচয়পত্র

2.  বাংলাদেশে যেকোন তফসিলি ব্যাংকে হিসাব

3.  গ্রাহকের নিজ নামে রেজিঃকৃত সচল মোবাইল নম্বর

4.  নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র/ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ 

5.  নমিনির মোবাইল নম্বর  

6.  পেনশন হিসাব নিবন্ধন সময় প্রথম কিস্তি বাবদ টাকা পরিশোধের জন্য [MFS: (Bkash, Nagad, Rocket, Upay etc); Card: (Debit Card, Credit Card, Prepaid Card) ; Internet/Online Banking: ( Sonali Bank, Islami Bank, City Bank )]  ইত্যাদিতে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকতে হবে।

 

পেনশন হিসাব খোলার জন্য যা  প্রয়োজন:

সর্বজনীন পেনশন স্কিম খোলার জন্য Internet Enabled ( যেটিতে ইন্টারনেট সংযোগ আছে ) Desktop Computer/ Laptop/Tablet (TAB)/ Smart Phone/ Others Devices এবং পেনশন হিসাব খোলার প্রয়োজনীয় তথ্য ( গ্রাহেকর মোবাইল নম্বর, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, ব্যাংক হিসাব নং, পেশা, বার্ষিক আয়, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা ইত্যাদি এবং নমিনির এনআইডি নম্বর/জন্ম নিবন্ধন নম্বর, মোবাইল নং ইত্যাদি।

 

 

আপননি কেন সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ করবেন?

আপনি  কেন সর্বজনীন পেনশন স্কিম খুলবেন যদি  এক কথায় বলি তাহলে উত্তর হলো আজীবন অর্থাৎ আমরণ পেনশন পাওয়ার জন্য

আপনি সর্বজনীন পেনশন  স্কিম খুলবেন। যেটি কেবল সরকারি চাকুরীজীবিরা পেয়ে থাকে। অর্থাৎ এখানে আপনি সরকারি চাকুরি না করেও আজীবন পেনশন প্রাপ্ত হবেন। তাছাড়া আপননি পেনশন পাওয়া অবস্থায় মারা গেলে আপনার নমিনি বাকি পেনশন পাবেন। উদাহরণ স্বরুপ আপনি যদি ৬২ বছর বয়সে মারা যান সেক্ষেত্রে নমিনি  ৭৫-৬২ = ১৩ বছর পেনশন পাবেন। অর্থাৎ এখানে আপনি ১৫ বছর গ্যারান্টিকৃত পেনশন পাবেন। পেনশনের বিকল্প কেবল পেনশনই  আপনাকে এটি মনে রাখতে হবে। তাছাড়া বৃদ্ধ বয়সে এটি আপনাকে প্রতি মাসে বিশেষ সাপের্ট দিবে। অধিকন্তু সর্বজনীন পেনশন স্কিম খোলা সবথেকে সহজ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত। আপনাকে কোন অফিসে ঘুরতে হবে না। আপনি চাইলে সবকিছু ঘরে বসে করতে পারবেন। একটি ছোট উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি তুলে ধরা হলো।

ধরি ,

আপনি ৩৫ বছর বয়সে মাসিক ২,০০০ ( দুই হাজার টাকা মাত্র ) দিয়ে সুরক্ষা স্কিম করলেন । এক্ষেত্রে আপনাকে চাঁদা প্রদান করতে হবে ৬০-৩৫=২৫ ( আপনি যে বয়সে  পেনশন স্কিম শুরু করেন না কেন আপনি ৬০ বছর বয়স থেকে পেনশন পাবেন ) বছর । ২৫ বছরে আপনাকে মোট চাঁদা প্রদান করতে হবে। ২,০০০*১২*২৫)=৬,০০,০০০/- ( ছয় লক্ষ টাকা মাত্র )। ধরে নিলাম আপনি ৬২ বছরে বয়সে মারা গেলেন । তাহলে আপনি ২ বছরে পেনশন নিয়ে গেলেন : ১৫,৯১০(মাসিক পেনশন) *১২*২=৩,৮১,৮৪০/- ( তিন লক্ষ একাশি হাজার আটশত চল্লিশ টাকা মাত্র )+আপনার নমিনি ১৩ বছরে পাবেন ১৫,৯১০ (মাসিক পেনশন) *১২*১৩=২৪,৮১,৯৬০ ( ছব্বিশ লক্ষ একাশি হাজার নয়শত ষাট টাকা মাত্র ) অতএব দেখা যায় ৬,০০,০০০ টাকা চাঁদা প্রদানের বিনিময়ে আপনি এবং আপনার নমিনি (৩,৮১,৮৪০+ ২৪,৮১,৯৬০)=২৮,৬৩,৮০০/- (আটাশ লক্ষ তেষষ্টি হাজার আটশত টাকা মাত্র )। আপনি যদি ৬২ বছর বয়সে মরে না যান সেক্ষেত্রে আজীবন ১৫,৯১০/- (পনের হাজার নয়শত দশ টাকা মাত্র ) করে পেনশন পাবেন। আপনার মাসিক পেনশনের জন্য কোন অফিসে দৌড়াতে হবে না। প্রতি মাসে আপনার ব্যাংক হিসাবে ( পেনশন খোলার সময় যে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেয়া ছিল ) পেনশনের টাকা জমা হবে। আপনি আপনার সুবিধা জনক সময়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।


পেনশন হিসাব খোলার প্রক্রিয়া:

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া: 


নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে এখানে  ক্লিক করে পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করে ১১ নম্বর পৃষ্ঠা অনুসরণ করুন 

     

পেনশনের মাসিক চাঁদা প্রদানের পদ্ধতি:

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে দুই ভাবে চাঁদা প্রদান করা যায়:-

1.  কাউন্টার পেমেন্ট:

এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য (পেনশনার আইডি/জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর )নিয়ে সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে চাঁদা পরিশোধ করতে হয়। এক্ষেত্রে গ্রাহক নিজে বা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে পেনশন এর চাঁদা পরিশোধ করতে পারেন। এটি সবথেকে সহজ পদ্ধতি বিশেষ করে যারা তথ্য প্রযুক্তি কিছুটা কম বুঝে /বুঝেনা তাদের জন্য চাঁদা পরিশোধের উত্তম পন্থা। এক্ষেত্রে গ্রাহককে চাঁদা পরিশোধের প্রমাণস্বরুপ ভাউচার প্রদান করা হয়। বর্তমানে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ইত্যাদি ব্যাংকের মাধ্যমে এ সেবা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে আরো ব্যাংক এ তালিকায় যুক্ত হবে।

NB: কাউন্টার পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে কোন অতিরিক্ত ফি/চার্জ পরিশোধ করতে হয় না।

2.  অনলাইন পেমেন্ট/সেল্ফ পেমেন্ট:

এটিকে সেল্ফ পেমেন্ট সিস্টেম ও বলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রাহক (www.upension.gov.bd ) এ প্রবেশ করে  পেনশনার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে  Login করে চাঁদা পরিশোধ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে Payment Method হিসাবে [MFS: (Bkash, Nagad, Rocket, Upay etc); Card: (Debit Card, Credit Card, Prepaid Card) ; Internet/Online Banking: ( Sonali Bank, Islami Bank, City Bank etc)] ব্যবহার করতে পারেন। এটি সবথেকে সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি। যে কোন সময় যে কোন স্থান থেকে চাঁদা পরিশোধ করা যায়। প্রমাণ স্বরুপ ভাউচার ডাউনলোড করা যায়। সাথে সাথে মোবাইল ও ই-মেইলে চাঁদা পরিশোধের কনফারমেশন বার্তা পাওয়া যায়।

বিঃদ্রঃ অনলাইন পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে 0.70% হারে ফিস/চার্জ অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হয়। তবে আপনি যদি পেমেন্ট মেথড হিসাবে সোনালী ব্যাংকের হিসাব ব্যবহার করেন তবে অতিরিক্ত ফিস/চাজ ছাড়া পেনশনের চাঁদা পরিশোধ করত পারবেন।

 

কর্পাস  হিসাব:

কর্পাস হিসাব বলতে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ এর ডাটাবেজে গ্রাহকের এনআইডি কার্ড এর বিপরীতে যে পেনশন হিসাব খোলা হয়েছে তাকে বুঝায়। প্রত্যেক গ্রাহকের নামে একটি কর্পাস হিসাব থাকবে। গ্রাহক তার পেনশনার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কর্পাস হিসাবের যাবতীয় তথ্য দেখতে পারবেন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রেয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। কর্পাস হিসাবে লগিন করে গ্রাহক নিন্ম বর্ণিত তথ্য দেখতে/পরিবর্তন দেখতে পারবেন।


1.  চাঁদা পরিশোধের বিবরণ

2.  মোট কত টাকা ও কত কিস্তি  জমা হয়েছে

3.  বকেয়া ও অগ্রিম কিস্তির পরিমাণ

4.  লোনের পরিমাণ ও অবস্থা

5.  নমিনি পরিবর্তন (বাতিল /সংযুক্তকরণ )

6.  স্কিম পরিবর্তন

7.  চাঁদার হার পরিবর্তন

8.  অন্যান্য


 

সর্বজনীন পেনশন প্রাপ্তি:

18-50 বছর বয়সে যারা পেনশন স্কিমে যুক্ত হবেন তারা  60 বছর বয়স থেকে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মাসিক পেনশন প্রাপ্ত হবেন। এখানে ব্যাংক হিসাব বলতে সর্বজনীন  পেনশন হিসাব নিবন্ধন করার সময় (পেনশন হিসাব খোলার সময় )যে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হয়েছিল সেটিকে বোঝান হয়েছে। তবে যারা 50 বছরের পরে  নিবন্ধন করবেন তারা নিবন্ধন থেকে 10 বছর পরে পেনশন প্রাপ্ত হবেন। উদাহরণ স্বরুপ কেউ যদি 54 বছর বয়সে নিবন্ধন করেন তবে তিনি 10 বছর চাঁদা প্রদানের পর অর্থাৎ 65 বছর বয়স থেকে পেনশন প্রাপ্ত হবেন। পেনশন প্রাপ্তির জন্য কোন অফিসে যেতে হবে না। প্রতিমাসে ব্যাংক হিসাবে পেনশনের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে। গ্রাহক তার সুবিধাজনক সময়ে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তিনি এটিএম কার্ড ও ব্যবহার করতে পারেন। তবে তিনি যে ( পেনশনার ) জীবিত আছেন তা প্রমাণ করতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর (  সাধারণত বছরে 1 বার ) Live Verification করার  প্রয়োজন হতে পারে।

 

নিশ্চয়তা/নিরাপত্তা

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের টাকা ফেরত পাওয়া/পেনশন পাওয়া নিয়ে অনেকের মনে বিভিন্ন ধরনের সংশয় ও সন্দেহ বিরাজ  করে । অনেকের ধারণা এটির টাকা মনে হয় ফেরত পাওয়া যাবে না। অনেকে আবার মনে করেন সরকার পরিবর্তন হলে এটি বাতিল হয়ে যাবে। এছাড়া ও অনেকের মনে সর্বজনীন পেনশন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক ধারণা আছে। তবে যারা এ ধারণা পোষণ করেন তাদের আশ্বস্ত করতে চাই সর্বজনীন পেনশন স্কিম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত । এটি পরিপূর্ণ সরকার দ্বারা পরিচালিত । সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রবর্তন করার জন্য মহান জাতীয় সংসদে “সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন-2023” ( 2023 সালের 4 নং আইন ) আইন পাশ করা হয় এবং 13 মার্চ 2024 সালে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়। সর্বজনীন পেনশন স্কিম পরিচালনা করার জন্য 2 এপ্রিল 2023 সালে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয় । জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষে কর্মরত কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন পেনশনারদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তহবিল থেকে পরিশোধ না করে রাজস্ব খাত থেকে পরিশোধ করা হয়।  পেনশনারদের নিকট থেকে চাঁদা বাবদ  প্রাপ্ত তহবিল নিরাপদ ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হয়। বর্তমানে 21 কোটি 31 লক্ষ টাকা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলে প্রয়োজনের নিরিখে কার্যোপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী আসতে পারে। তবে এটি সহজে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম।  এটি সঞ্চয়পত্রের মত নিরাপদ বিনিয়োগ। কাজেই টাকা ফেরত পাওয়া কিংবা পেনশন না পাওয়া নিয়ে দুঃচিন্তা, ভয় বা সংশয়ের কোন কারণ নেই। আপনি নিঃসন্দেহে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশ গ্রহণ করতে পারেন।

বিশেষ নোট

1.  সর্বজনীন পেনশন স্কীমে নিবন্ধন করার  জন্য কোন ফরম পুরণ করা বাধ্যতামুলক নয়। তবে নিবন্ধন কারার সুবিধার্থে তথ্য সমুহ লিখে রাখার জন্য আপনি  ফরম পুরণ করতে পারেন।

2.  কোন ছবির প্রয়োজন নেই । আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি আপনার পেনশন স্কিমের ছবি হিসাবে বিবেচিত হবে।

3.  কোন অফিস বা শাখায় যাওয়া বাধ্যতামুলক নয় আপনি ঘরে বসে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ইন্টারনেট এনাবল্ড ডিভাইস এর সাহায্যে নিজে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং চাঁদা পরিশোধ করতে পারবেন। এমনকি প্রয়োজনীয়  তথ্য দেখতে ও সংশোধন করতে পারবেন।

4.  সর্বজনীন পেনশন স্কিমে রেজিস্ট্রেশনের পর কোথাও  কোন হার্ডকপি কোথায় সাবমিট করতে হয় না।

5.  ব্যাংক হিসাব নম্বর অবশ্যই সঞ্চয়ী হওয়া আবশ্যক। Recurrent Deposit (DPS) & Fixed Deposit A/C হলে পরবর্তীতে সমস্যা হবে। কেননা একটি নির্দিষ্ট সময় শেষে এধরনের হিসাবের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তখন পেনশন পেতে এবং ঋণ নিতে  অসুবিধা হবে।

 

যোগাযোগ:

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ

43, কাকরাইল, 4 আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম রোড, ঢাকা-1000 ।

সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সকাল 9.00 থেকে বিকাল 5.00 পর্যন্ত

E-mail

support@upension.gov.bd

 

Hotline

+8809610 900800

সকাল 9.00 থেকে বিকাল 5.00 টা পর্যন্ত ।

Facebook

www.facebook.com/nationalpensionauthority

 

 

 

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন:

1

অগ্রিম কিস্তি প্রদান করা যাবে কিনা?

আপনি চাইলে অগ্রিম কিস্তি প্রদান করতে পারবেন। এমনকি একবারে আপনার সমুদয় কিস্তি ও  অগ্রিম পরিশোধ করতে পারবেন।

 

2

বকেয়া কিস্তি পরিশোধ করা যাবে কি? আমি 5 বছর (60 মাস ) চাঁদা প্রদান করিনা, আমি কি হিসাবটি বিলম্ব ফি দিয়ে সক্রিয় করতে পারব?

আপননি বকেয়া 1 মাস পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া পরিশোধ করতে পারবেন। এর বেশি হলে দৈনিক 1 % হারে জরিমানা প্রদান করে কিস্তি পরিশোধ করা যাবে। আপনি যদি ধারাবাহকিভাবে 3 কিস্তি বকেয়া রাখেন তবে হিসাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সমুদয় বিলম্ব ফি দিয়ে আপনার পেনশন হিসাব সক্রিয় করতে পারবেন।

3

আমি পেনশন হিসাব খুলে 5 মাস চাঁদা পরিশোধ করেছি । এখন এটি বন্ধ করে টাকা ফেরত পেতে চাই । আমি এখন আমার জমাকৃত টাকা ফেরত পাব কিনা?

সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিল করে /নগদায়ন করে তাৎক্ষণিক টাকা পাওয়ার সুযোগ নেই। আপনি 10 বছর পরে মুনাফাসহ জমাকৃত টাকা ফেরত পাবেন। তাৎক্ষণিক নগদ টাকা ফেরত পাবেন না।

4

আমি 35 বছর বয়সে পেনশন স্কিমে নিবন্ধন করেছি। 10 বছর চাঁদা পরিশোধ করেছি। আমি চাঁদা পরিশোধ করব না। আমি 60 বছর বয়সে মুনাফাসহ জমাকৃত টাকা পাব নাকি পেনশন পাব?

আপনি যেহেতেু 10 বছর চাঁদা পরিশোধ করেছেন সুতরাং আপনি পেনশন পাবেন।

5

পেনশন পাওয়া অবস্থায় নমিনি মৃত্যু বরণ করলে কি ঘটবে?

পেনশন পাওয়া অবস্থায় নমিনি মৃত্যু বরণ করলে তার ( নমিনির ) উত্তরাধিকারী/উত্তরাধিকারীরা অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেনশন প্রাপ্ত হবেন।

6

আমি একটি সরকারি চাকুরি করি। আমার স্বামী/স্ত্রীর নামে পেনশন স্কিম খুলে স্ত্রী /স্বামী পেনশনরত অবস্থায় মারা গেলে আমি কি নমিনি হিসাবে তার পেনশন পাব? কেননা আমি নিজে তো চাকুরির জন্য পেনশন পাই।

নমিনি হিসাবে স্ত্রীর/স্বামীর পেনশন পেতে আপনার কোন অসুবিধা হবে না। এক্ষেত্রে আপনার চাকুরির পেনশন এবং নমিনি হিসাবে আপনার স্ত্রীর/স্বামীর পেনশন পাবেন।

7

কোন গ্রাহক 5 বছর চাঁদা দেওয়ার পরে মারা গেলে কি ঘটনা ঘটবে?

এক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় শেষে নমিনি মুনাফাসহ জমাকৃত টাকা এককালীন ফেরত পাবেন। এখানে নির্ধারিত সময় বলতে গ্রাহকের বয়স 60 বছর বা তৎপরবর্তী সময়কে বোঝান হয়েছে।

8

কোন গ্রাহক 10  বছর চাঁদা দেওয়ার পরে মারা গেলে কি ঘটনা ঘটবে?

এক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় শেষে নমিনি 15 বছর ধরে পেনশন প্রাপ্ত হবেন। এখানে নির্ধারিত সময় বলতে গ্রাহকের বয়স 60 বছর বা তৎপরবর্তী সময়কে বোঝান হয়েছে।

9

কোন 62 বছর বয়সে পেনশনরত অবস্থায় মারা গেলে নমিনি কত বছর পেনশন পাবেন?

এক্ষেত্রে নমিনি 75-62 = 13 বছর পেনশন পাবেন।

 

 

 

 

 

 

তথ্যসুত্র:

1.     www.upension.gov.bd

2.     সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিধিমালা ২০২৩

3.     দৈনিক প্রথম আলো

4.     The Daily Star

5.     Conversation Over Hotline (+8809610 900800 )

 

 

Prepared By:

এস.এম. নুরুল হক

অফিসার-আইটি

সোনালী ব্যাংক পিএলসি

E-mail: nurulhaque1989@gmail.com

Mob: 01724 705589

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


No comments

Powered by Blogger.